নবনির্মিত ইসলামপুর আদালত ভবন চালু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা

দীপঙ্কর দে (টী.এন.আই ইসলামপুর) । টি.এন.আই সম্পাদনা শিলিগুড়ি

বাংলাডেস্ক, টী.এন.আই ইসলামপুর ২রা ফেব্রুয়ারি ২০১৮: ইসলামপুর আদালতের নবনির্মিত ভবন দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা। পাশাপাশি কোর্ট এজলাসের পরিসরে সাধারণ মানুষ তো দুরঅস্ত আইনজীবীদেরই বসার ঠিকঠাক জায়গা নেই। এছাড়াও ইসলামপুর আদালত চত্ত্বরে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিষেবা না থাকায় আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতীর হুমকি দিয়েছে। এই মর্মে ইতিমধ্যেই ইসলামপুর বার আসোসিয়েশন দুদিনের প্রতীকী কর্মবিরতী পালন করেছে। জানা গিয়েছে, ইসলামপুরের 6টি আদালত মহকুমা শাসকের দপ্তর চত্ত্বরে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ইসলামপুরের এডিজে ১ ও ২ কোর্ট, ফাস্ট ট্র্যাক ১ ও ২ এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ ও ২ কোর্ট মহকুমা শাসক দপ্তর চত্ত্বরে রয়েছে। এছাড়া সরকারী আইনজীবীদের অফিস ও সাব-ডিভিশনাল লিগেল এইড সার্ভিসেস এর অফিস মহকুমা শাসক চত্ত্বরে রয়েছে। এই সমস্ত কোর্ট ও অফিসগুলি নবনির্মিত ভবনে যাওয়ার কথা। কিন্তু ইসলামপুর আদালত চত্ত্বরে নতুন ভবন নির্মান হলেও তা আজও চালু হয়নি। এদিকে মহকুমা শাসকের দপ্তর চত্ত্বর পাকা দেওয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলায় একদিকে যেমন আইনজীবীদের কোর্টে যাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অন্যদিকে মক্কেলদের মধ্যেও কোর্ট চিনতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও এসিজেম কোর্ট সহ বিভিন্ন কোর্টে আইনজীবীদেরই বসার জায়গা নেই। কোনও সাধারণ মানুষ দেশের বিচার ব্যবস্থা জানতে বা তার প্রক্রিয়া শুনতে ও দেখতে এজলাসের ভেতরে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তার কোনও উপায় নেই। পাশাপাশি পানীয় জল, শৌচাগার সহ বিভিন্ন পরিষেবার অভাব থাকায় সরব হয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন। ইসলামপুর বার আসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বাবলু মজুমদার বলেন, নতুন ভবন নির্মিত হলেও তা চালু করা হচ্ছে না। এজলাসের ভেতরে আইনজীবীদের বসার জায়গা নেই। সাধারন মানুষের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার কোনও উপায় নেই। এসডিও’র জায়গায় থাকা 6টি কোর্ট দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। আমাদেরও অসুবিধা হচ্ছে আর মক্কেলরা তো খুঁজেই পাচ্ছে না। পানীয় জল, শৌচাগার কিছুই নেই, আমরা সম্প্রতি দুদিনের প্রতীকী কর্মবিরতী করেছিলাম। হাইকোর্ট সহ সমস্ত জায়গায় জানিয়েছি অবিলম্বে সমস্যার সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতীতে যাব আমরা। ইসলামপুর আদালতের সরকারী আইনজীবী মোক্তার আহমেদ বলেন, নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ হওয়া টাকা কম পরে যাওয়াতে সমস্যা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত আরও ৭৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকি থাকা কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে। মহকুমা শাসকের জায়গায় থাকা কোর্টগুলি নতুন ভবনে চলে গেলে সব সমস্যা মিটে যাবে।

ছবিঃ দীপঙ্কর দে (টী.এন.আই)

Facebook Comments
Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!