উত্তরবঙ্গজলপাইগুড়ি

গান, হুমকি – দিনভর মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার তোলপাড় ধুপগুড়ী হাসপাতাল

সুপ্রিয় বসাক (টী.এন.আই ধুপগুড়ি) । টি.এন.আই সম্পাদনা শিলিগুড়ি

বাংলাডেস্ক, টী.এন.আই ধুপগুড়ী ১৪ই জানুয়ারি ২০১৮: হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের চেয়ারে বসে নিজ মনে গান,আবার কখনো দায়িত্বে নিরাপত্তা কর্মীকে চাকরি থেকে বরাখাস্তের হুমকি, দিনভর এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার তোলপাড় চলল হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকাল থেকে।এদিন সকালেই এই মহিলাকে হাসপাতাল চত্বরে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলার ঘুম ভাঙতেই দেখা দেয় বিপত্তি। শুরু হয় তোলপাড় হাসপাতাল থেকে বের হবার জন্যে নিরাপত্তারক্ষীকে ধমক আবার কখনও কর্তব্যরত চিকিৎসকের চেয়ারে বসে আপন মনে গান করতেও শুরু করেন। তবে মহিলার ওপর যথেষ্ট নজর রেখেছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডাকা হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় পুলিশ যায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ তদন্তে নেমে মহিলা নাম জানা যায় মহিলার নাম  ঝর্ণা বিশ্বাস মন্ডল(৩৯)। অভিযোগ, শনিবার রাতে ধুপগুড়ি ব্লকের ভোটপাড়া বাজারে এই মহিলা চিৎকার করছিল। সেইসময় গ্রামবাসীরা মহিলাকে নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে নিয়ে রেখে আসে। গোটা রাত হাসপাতালেই কাটায় মহিলা। এদিকে কে বা কারা মহিলাকে হাসপাতালে ছেড়ে গেল, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। তবে ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা: সব্যসাচী মন্ডল ছুটিতে থাকায় এই মূহুর্তে তা সম্ভব নয় বলেও জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের ভোটপাড়া এলাকায় বাপের বাড়িতেই থাকতেন ঝর্না, এর আগে শিলিগুড়িতে বিয়ে হয়েছিল। সেখানে বিবাহবিচ্ছেদও ঘটে। পরে পুনরায় ময়নাগুড়ি রোড এলাকায় বিয়ে হয়। সেখান তার দুই ছেলে ও মেয়ে রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।তবে গত প্রায় ৮-৯ বছর আগে মহিলা তার স্বামীর বাড়ি অর্থাৎ ময়নাগুড়ি রোড ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে আসে। মূলত মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে বাজারে চিৎকার করতে থাকায় তাকে হাসপাতালে ছেড়ে যায় গ্রামের কিছু মানুষ। ঘটনায় স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা ভারতী মন্ডল বলেন, মহিলার দায়িত্ব নেবার কেউ নেই। ভোটপাড়া বাজারে চিৎকার করছিল। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই মহিলাকে হাসপাতালে রেখে আসা হয়। পুলিশ সুত্রে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে ও ভোটপাড়া এলাকায় পুলিশ খোজ নিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

ছবিঃ সুপ্রিয় বসাক (টী.এন.আই)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *