উত্তরবঙ্গজলপাইগুড়ি

চিতাবাঘ শাবককে আটকে রেখে বেধড়ক অত্যাচার বানারহাটের দুরামারিতে

অঙ্কিতা সেন (টি.এন.আই বানারহাট) । টি.এন.আই সম্পাদনা শিলিগুড়ি

বাংলাডেস্ক, টি.এন.আই, বানারহাট, ১০ই মার্চ, ২০২১: গ্রামে ঢুকে পড়া চিতাবাঘকে প্রহারের পর বেঁধে রাখল গ্রামবাসীরা। প্রাণভয়ে ভুট্টাখেতে আশ্রয় নিল শাবক। পরে খবর পেয়ে বনদপ্তরের কর্মীরা গিয়ে শাবক সহ গুরুতর আহত চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে বানারহাট ব্লকের দুরামারি সংলগ্ন এলাকায়। আহত চিতাবাঘ দুটিকে চিকিৎসার জন্য লাটাগুড়ি প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে মঙ্গলবার সকাল ৯টা নাগাদ দুরামারির লোকালয় সংলগ্ন চাষের জমিতে গ্রামবাসীরা শাবক সহ একটি চিতাবাঘকে দেখতে পান। বাঘদুটি পার্শ্ববর্তী তোতাপাড়ার জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে এসেছিল। বাঘ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রচুর বাসিন্দা বেড়িয়ে এসে যে এলাকায় চিতাবাঘ দুটিকে দেখা গিয়েছিল সেই এলাকাটি ঘিরে ফেলে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে চিতাবাঘ খোঁজার কাজ শুরু করেন। মা চিতাবাঘটিকে স্থানীয় কয়েকজন দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এর পর সেটিকে বাঁশে ঝুলিয়ে গ্রামেরই একটি খেতের পাশে নিয়ে আসা হয়। গ্রামবাসীদের যথেচ্ছ প্রহারে চিতাবাঘটি গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শাবক চিতাবাঘটি প্রানভয়ে একটি ভুট্টাখেতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে বনদপ্তরের বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের আধিকারিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ভীড় নিয়ন্ত্রণে বানারহাট থানা থেকেও পুলিশবাহিনি আসে। তাদের যৌথ প্রয়াসে গুরুতর আহত মা চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়৷ এর পর ভুট্টাখেতে লুকিয়ে থাকা শাবকটিকেও ঘুমপাড়ানি গুলি করে বনকর্মীরা উদ্ধার করেন। এদিনের ঘটনাটি বন্যপ্রাণীদের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাবকে আরোও প্রকট করে তুলল। স্থানীয় বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের  সদস্যরা জানান, দুরামারিতে লোকালয়ে চিতাবাঘ ঢুকে পরার পর গ্রামবাসীরা যেভাবে সেটিকে বেঁধে রাখল তা বন্যপ্রানী আইন অনুযায়ী অপরাধ। বাঘদুটি যথেষ্ট পরিমাণ জখম হয়েছে, এর উল্টোটাও হতে পারত। বনদপ্তরের উচিৎ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচার চালানো। বনদপ্তরের বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের আধিকারিক শুভাশিস রায় বলেন এদিন দুরামারি এলাকায় লোকালয়ে ঢুকে পরা মা সহ শাবক চিতাবাঘ দুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। চিতাবাঘদুটির উপর অত্যাচার করার ঘটনাটি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মা চিতাবাঘটির চিকিৎসা চলছে, শাবক বাঘটি সুস্থ্য হয়েছে, সেটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ছবি: অঙ্কিতা সেন (টি.এন.আই)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *