চোপড়ার দিনমজুরকে প্রাণ দিয়ে দিতে হল তৃণমূলকে সমর্থনের খেসারদ
দীপঙ্কর দে (টী.এন.আই ইসলামপুর) । টি.এন.আই সম্পাদনা শিলিগুড়ি
বাংলাডেস্ক, টী.এন.আই, ইসলামপুর ২৯শে অগাস্ট, ২০১৮: চোপড়ার কন্টিগছের দিনমজুরের পরিবারকে দিতে হলো তৃণমূলকে সমর্থনের খেসারদ। জানা গিয়েছে, চোপড়া থানার ভারত-বাংলা সীমান্তের নিচাখালী কন্টিগছ গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ খইরুল পেশায় দিনমজুর। গতকাল মঙ্গলবার দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের দিনে খইরুল বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু রাজনৈতিক হিংসার এহেন পরিণামের ইতিহাস খইরুলের জানা ছিল না। জানতেন না খইরুলের স্ত্রী আকলেমা খাতুনও। দাসপাড়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে খাটাখোওয়া গ্রামে কংগ্রেস-তৃণমূলের সংঘর্ষের মুখে পড়ে যান খইরুল। তৃণমূল সমর্থক বলেই তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পশুর ন্যায় কোপায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় খইরুলকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর আসে গ্রামে। তীব্র শোকে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো নিচাখালী কন্টিগছ গ্রাম সহ চোপড়া। গ্রামবাসীদের কাছে এককথায় সৎ ও ভালো মানুষ হিসাবে পরিচিত খইরুল। সবার মুখে একটাই কথা খইরুলতো কোনও মিটিং মিছিলে যায় না, তৃণমূলকে ভালোবাসে ওকে কেন মারলো। ছোট ছোট দুই ছেলে কি করে বেঁচে থাকবে এই চিন্তায় অনবরত কেঁদেই চলেছে স্ত্রী আকলেমা। ছেলের পরিণতি দেখে বাকরুদ্ধ বাবা দবিরুদ্দিন। তবে খইরুলের বাড়িতে এখন সমবেদনা জানানো গ্রামবাসীদের উপচে পড়া ভিড়। খইরুলের ভাই মজিরুল বলেন, দাদার মৃত্যুতে পরিবারটা ভেসে গেল। কংগ্রেসীরা ছোট দুইটা শিশুকে অনাথ করে রাস্তায় নামিয়ে দিল। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রেজা খান বলেন, কারো সাথে পাছে থাকতো না, খুব ভালো ও সৎ মানুষ ছিল খইরুল। ওর পরিবারের পাশে আমাদেরকেই দাঁড়াতে হবে। সবমিলিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতের পাশাপাশি তীব্র শোকের আবহে খইরুলের গ্রাম।
ছবিঃ দীপঙ্কর দে (টী.এন.আই)