উত্তরবঙ্গরায়গঞ্জ

ভিন্ন সম্প্রদায়ে বিয়ে করাতে বাবা মার বাড়ি জ্বলল, অভিযুক্ত গ্রামের মাতব্বরা

দীপঙ্কর দে (টি.এন.আই ইসলামপুর) । টি.এন.আই সম্পাদনা শিলিগুড়ি

বাংলাডেস্ক, টি.এন.আই, ইসলামপুর, ২৩শে ডিসেম্বর, ২০১৮: মেয়ে ভিন্ সম্প্রদায়ের যুবকের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় বাপের বাড়িতে গ্রামের মাতব্বরদের লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল ইসলামপুর থানার জিয়াগুরি গ্রামে। ঘটনার জেরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইসলামপুর থানার জিয়াগুরি গ্রামের জামালউদ্দিনের মেয়ে গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় একটি ভিন সম্প্রদায়ের যুবকের সাথে প্রণয় ঘটিত কারণে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হতেই গ্রামের মাতব্বররা মীমাংসা করে দেওয়ার নামে জামালউদ্দিনের কাছে কয়েক লক্ষাধিক টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ। টাকা না দেওয়াতে শুক্রবার জামালউদ্দিনের বাড়িতে গরু ছাগল বেশ কয়েক ভরি সোনা ও রুপার গহনা লুটপাট করার পাশাপাশি ধানের গাঁদাসহ বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় দমকলকে খবর দেওয়া হলে দমকল বাহিনীর ইঞ্জিন পৌঁছানোর আগেই জামালউদ্দিনের বাড়ির সর্বোচ্চ পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। পাশাপাশি ইসলামপুর থানার রামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ। এছাড়াও পুলিশের মদতে তৃণমূল আশ্রিত গ্রামের এই মাতব্বররা এধরনের সন্ত্রাস চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ। জামালউদ্দিনের স্ত্রী ইনোজিন খাতুন বলেন, স্থানীয় তৃণমূল নেতারাই ঘটনার মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার জন্য আমার কাছে তিন লক্ষ টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়াতে ওরা আমার বাড়িতে এসে ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে সর্বস্ব নিয়ে গিয়েছে এবং ধানের গাদা ও বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। পুলিশকে ডাকা হলেও যথাসময়ে পুলিশ এসে পৌঁছয়নি পুলিশের মদতেই তৃণমূল নেতারা আমাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। যদিও কমলাগাঁও সুজালী অঞ্চলের সভাপতি তৃণমূলের আব্দুল হোসেন বলেন, স্থানীয় মইনুদ্দিন জামালউদ্দিনের সাথে মিলে নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। কারণ জামালউদ্দিনের মেয়ে একজন ভিন্ সম্প্রদায়ের ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়েছে। গ্রামের মানুষরা ক্ষুব্দ হয়ে জামালউদ্দিনকে মুসলিম সম্প্রদায় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়াতে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মইনুদ্দীন একটি অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত সে কারণেই তৃণমূলকে বদনাম করতে তার এই ষড়যন্ত্র। এই ঘটনার সাথে তৃণমূলের কোন যোগাযোগ নেই।

ছবি: দীপঙ্কর দে (টি.এন.আই)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *