আলিপুরদুয়ারউত্তরবঙ্গজীবনশৈলীশিক্ষা-দীক্ষা

ফালাকাটার ইংরেজি স্কুলে ২৫৭টি বারন্ত গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশ প্রেমিরা ক্রুদ্ধ

অরুনাংশু মৈত্র (টী.এন.আই ফালাকাটা) । টি.এন.আই সম্পাদনা শিলিগুড়ি

বাংলাডেস্ক, টী.এন.আই, ফালাকাটা, ৬ই মে, ২০১৮: এক অনন্য নজির গড়ল ফালাকাটার এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। যেখানে সমগ্র দেশে প্রায় সব স্কুলেই সবুজ বাচাও অভিযানে সামিল করা হচ্ছে এযুগের ছাত্র ছাত্রীদের, সেখানে উক্ত ৬৯ বছরের পুরনো মিশনারি স্কুল কতৃপক্ষ কমপক্ষে ২৫৭ ঘাছ একবারে কেটে ফেলে বিতর্কে জড়াল। ফালাকাটার বিভিন্ন পরিবেশ প্রেমী সংগঠন গাছ কাটার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। জানা গেছে সম্প্রতি স্কুল ক্যাম্পাসের ২৫৭ টা গাছ কেটে ফেলেছেন ফালাকাটা স্টেশন সংলগ্ন রেমন্ড মেমোরিয়াল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল কতৃপক্ষ। স্কুল ক্যাম্পাসের বাড়ন্ত শেগুন, শিশু গাছ কেটে ফেলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও ইংরাজি মাধ্যম এই বিদ্যালয় কতৃপক্ষ জানিয়েছে স্কুলের সীমানা প্রাচীরের অর্থ সংগ্রহ করার জন্য স্কুল ক্যাম্পাসের এই সব গাছ কাটা হয়েছে। এই গাছ কাটার ক্ষেত্রে উপযুক্ত অনুমতি নিয়েছে স্কুল কতৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল বিনয় তিরকে বলেন, “আমরা গাছ কাটার জন্য স্থানীয় বনদফতরের থেকে অনুমোদন নিয়েছি। এই গাছগুলো ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরনো। সীমানা প্রাচীরের অর্থ সংগ্রহ করার জন্য এই গাছ কাটা হয়েছে। এর পরিবর্তে এই স্কুল ক্যাম্পাসে সাড়ে তিনহাজার নতুন চারাগাছ লাগানো হবে। সেই চারাও আনা হয়েছে”। উল্লেখ্য ১৯৪৯ সালে ফালাকাটা স্টেশন সংলগ্ন ৩৭০ একর জমির উপর এই বিদ্যালয়টি স্থাপন হয়। বিভিন্ন সময় দেশি বিদেশি প্রচুর ছাত্র এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এলাকায় এই বিদ্যালয়ের বেশ সুনাম রয়েছে। আই.সি.এস.ই বোর্ড অনুমোদিত এই বিদ্যালয়ে হঠাৎ করে একসাথে এতগুলো গাছ কেটে ফেলার জন্য বিতর্ক ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ফালাকাটার পরিবেশ প্রেমীরা। ফালাকাটা জটেশ্বর হাইস্কুলের শিক্ষক পরিবেশ প্রেমী ডঃ প্রবীর রায় চৌধুরি সদলবলে রবিবারে বিদ্যালয় কতৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। শ্রী প্রবীর রায় চৌধুরি বলেন, “আমরা এই ঘটনার তিব্র নিন্দা করছি। একসাথে এতগুলো বাড়ন্ত গাছ কাটা মোটেই আইন সঙ্গত নয়। সীমানা প্রাচীরের জন্য অন্য কোন উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করা যেত। কিন্তু এভাবে গাছ কেটে অন্যায় করেছে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। আমরা এর প্রতিবাদে যতদুর যেতে হয় যাবো। প্রয়োজনে গ্রীন ট্রাইবুনালে এই বিষয়ে মামলা করা হবে”।

ছবিঃ অরুনাংশু মৈত্র (টী.এন.আই)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *